Wednesday, March 30, 2011

সৌন্দর্য চর্চায় হারবাল

যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্য চর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে হারবাল। কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী আপনাকে সুন্দর করে তুললেও এর কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা স্বীকার করেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই। তবে ভেষজ উপাদান কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রকৃত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে আপনাকে করবে মোহনীয়। হারবাল রূপচর্চার নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ হাসিনা মমতাজ

ত্বকে হারবাল যত্ন

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করার বিকল্প নেই। মুখ ধোয়ার জন্য কেমিক্যালযুক্ত ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার না করে হারবাল উপায়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারি। এক্ষেত্রে দুই চা-চামচ দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তাতে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য দুধ ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তুলা ভিজিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে হলুদ বাটা ও চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে লাগান।
পাকা পেঁপে ময়েশ্চারাইজের কাজ করে। স্বাভাবিক ত্বকের যত্নে কাঁচা পেঁপের কষ, চন্দন গুঁড়া, গোলাপজলে মিশিয়ে মুখে লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে দইয়ের সঙ্গে লেবুর রস মিলিয়ে সারা মুখে মেখে রাখুন। কয়েক মিনিট পর ভেজা তুলা দিয়ে মুছে ফেলুন। গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শসার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে। ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমন্ড, বাদামি গোলাপের পাপড়ি এবং দুধের সর দিয়ে বেটে মুখে লাগান। ত্বককে টানটান করার জন্য ত্বকে লেবুর খোসা ঘষুন। লেবুর খোসায় উপস্থিত অ্যাস্টিনজেন্ট লোমকূপ বন্ধ করে ত্বককে টানটান করে।
ত্বকে যদি অন্য রকম এক আভা নিয়ে আসতে চান তাহলে মসুর ডাল বাটা, নিমপাতা বাটা, কাঁচা হলুদ বাটা, দই, মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য এক কাপ ফোটানো দুধে অর্ধেক লেবুর রস দিন। এতে আধা চা-চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। রাতে শোয়ার আগে এটি মুখে ও হাতে-পায়ে মেখে নিন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে তার ছাপ পড়তে থাকে। বয়স ধরে রাখতে হারবালের কোনো জুড়ি নেই। মুখে বয়সের ছাপ কমাতে চাইলে প্রতিদিন ডাবের পানিতে লেবুর রস দিয়ে পান করুন। যাদের মোটা শরীর তারা দেহের চর্বি কমাতে এক গ্লাস পানিতে একটি পুরো পাকা লেবুর রস এবং চার চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন।
ব্রণের সমস্যা ত্বকের সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। যারা ব্রণের সমস্যায় ভোগেন তারা নিমপাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ও চন্দন বাটা মুখে প্রলেপ দিন। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক এভাবে করলে ব্রণ পুরোপুরি চলে যাবে। তবে অনেকে নিমপাতা বেটে মুখে লাগান। এতে ত্বক কালো হয়ে যায়। ব্রণের সমস্যায় কচি মুলার রস ও সামান্য নিমপাতা সেদ্ধ পানি তুলার সাহায্যে ত্বকে লাগান। অনেকের মুখেই কালো কালো দাগ দেখা যায় যা সৌন্দর্যহানি ঘটায়। ১ চা-চামচ ধনিয়ার রসের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে সারা রাত মুখে লাগিয়ে রেখে দিন। সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় পুরো মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন কয়েক দিন ব্যবহারেই উপকার পাচ্ছেন। অনেকে মেছতা সমস্যায় ভোগেন। মেছতা সমস্যা একমাত্র হারবাল পদ্ধতিতেই পুরোপুরি ঠিক হয়। যাদের মুখে মেছতা আছে তারা ১ চা-চামচ সাদা জিরা গুঁড়া, ১ চা-চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ চা-চামচ সরষে গুঁড়া ও ১ চা-চামচ আটা মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মেছতার ওপর লাগান। বিশ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখে ক্লান্তির ছাপ কাটাতে চন্দন বাটা, তুলসী বাটা গোলাপজলে মিশিয়ে গলায় ও মুখে লাগান। দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল হয়ে গেছে।
মরা কোষ উঠানোর জন্য প্রয়োজন স্ক্রাবার। ভেষজ উপাদান দিয়েই স্ক্রাবিং করা যায়। এজন্য ১ চা-চামচ করে আতপ চালের গুঁড়া, মধু, মেথি, মসুর ডাল বাটা, কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন বাটা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। বিশ-পঁচিশ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন। ত্বককে মসৃণ করার জন্য ১ কেজি পরিমাণ মসুর ডাল গুঁড়া করে তাতে আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া, শুকনো পোলাপ পাপড়ি গুঁড়া, চার টেবিল চামচ বেসন মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে আপনি মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ মাস্কটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে পনের মিনিট শুয়ে থাকুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সমপরিমাণ ভিনেগার ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে পাতলা করে নিয়ে ত্বকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। মুলতানি মাটি, গোলাপজল ও চন্দন গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এ উপকরণটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
চুলের সৌন্দর্যে হারবাল
ত্বক যতই সুন্দর হোক না কেন চুল যদি হয় উস্কো-খুস্কো তবে সব সাজসজ্জাই মাটি হয়ে যাবে। আর তাই চুল সুন্দর করতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। চুলকে মসৃণ করতে কচি আমলকীর রস ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। চুল কালো করতে চাইলে জবা ফুলের রস লাগান। পুষ্ট ও ঝলমলে চুলের জন্য পাকা কুমড়ার বীজ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পাকা কুমড়ার বীজ শুকিয়ে বায়ু নিরোধক পাত্রে রেখে দিন এবং মাঝে-মধ্যে চিবিয়ে খান। চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে পেঁয়াজের রস পুরো মাথায় লাগান। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে আপনি চুলে রিঠা ব্যবহার করতে পারেন। এক মুঠো রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ফুটিয়ে নিন। তারপর তা চুলে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন। মসুর ডাল বাটার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আধা ঘণ্টা মাথায় রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল সতেজ হবে। এছাড়া সারা রাত মেথি ও কয়েকটা কাঁচা আমলকী পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন তা বেটে চুলে লাগান। চুল ঝরঝরে করার জন্য মেহেদি, আমলকী, টকদই ও ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে মাখুন এবং এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের প্রোটিন ট্রিটমেন্টের জন্য ডিমের সাদা অংশ ফেটে তাতে মেথি গুঁড়া মিশিয়ে চুলে লাগান।

বৈশাখী পোশাকের আগাম প্রস্তুতি

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উত্সব। এ উত্সবে দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস কে-ক্র্যাফট সেজেছে ব্যাপক আয়োজন নিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে আজ বাংলা নববর্ষের উদযাপনে দেশের অন্যতম প্রধান আনন্দ উত্সবে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ঘরে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কে-ক্র্যাফট নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ক্রেতাগোষ্ঠীর সামনে উপস্থাপন করেছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, অর্নামেন্টস, গিফটস ও গৃহসজ্জা সামগ্রী নিয়ে বৈশাখী আয়োজন। রং হিসেবে প্রধানত ব্যবহার হয়েছে লাল, মেরুন, অরেঞ্জ, সাদা, অফহোয়াইট, ম্যাজেন্টাসহ নানা রং। এ দেশের ট্রাডিশনাল ফোক মোটিফের নিরীক্ষাধর্মী নাগরিক ব্যবহার করা হয়েছে পোশাক ও অনুষঙ্গে।
নববর্ষের শাড়ি
দেশের প্রধান আনন্দ-উত্সব ঈদকে সামনে রেখে কে-ক্র্যাফট এ বছরে শাড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনের একটি বড় আয়োজন উপস্থাপনা করেছে। নিজস্ব ডিজাইনে বোনা তাঁতের শাড়িতে থাকছে বুননরীতি, মোটিফের ব্যবহার উপস্থাপনা, কালার বিন্যাস, ভ্যালু অডিশনে নানা মিডিয়ার ব্যবহার এ নিপুণতা। এবারের বৈশাখের কাজে বিষয় হিসেবে নানারকম ভিন্নতা আনা হয়েছে। পটচিত্র, ট্রাইবাল মোটিফ, গ্রিক আর্চ মোটিফ, ইমলামিক প্লান্ট মোটিফ, ফ্লাওয়ার মোটিফ ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। উইভিং ডিজাইনে বোনা তাঁতের শাড়িতে মার্জিত কালার ও উন্নত ফিনিশিং এ ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এপ্লিক, হাজার বুটির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু শাড়িতে অ্যাম্ব্রয়ডারি কাজ দেখা যাবে। প্রধানত টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে নিজস্ব ডিজাইনে শাড়িগুলো বোনা হয়েছে। তাতে ডবি/জ্যাকার্ড ডিজাইনকৃত ও ভাইটাল শাড়ির বিশেষ আয়োজন থাকছে। উজ্জ্বল রং, কন্ট্রাস্ট কম্বিনেশন উত্সবমুখী তরুণমনের উপযোগী এ শাড়িগুলোয় ইক্কাত, চেক, ডবি ও জ্যাকার্ড ডিজাইন দেখা যাবে। উপস্থাপনা ও কালার কম্বিনেশনে চমত্কারিত্ব দৃষ্টি কাড়বে।
মানিকগঞ্জে বোনা এন্ডি শাড়ির সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলাকা সিল্কের কম্বিনেশনে তৈরি শাড়িতে ব্লকপ্রিন্ট, স্কিনপ্রিন্ট, এপ্লিক, হাজার বুটির, এম্ব্রয়ডারি, চুমকি, পুঁতি, ভরাট ও কাঁথা স্টিচের কাজ করা হয়েছে। রুচিশীল, যত্নে তৈরি টারসের ব্যবহার শাড়ির উপস্থাপনায় এনেছে বৈচিত্র্য। মসলিন শাড়িতে গর্জিয়াস ও উত্সবধর্মী শেডওয়ার্ক, ভারী চুমকির কাজ, কারচুপি ও মেশিন এম্ব্রয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছে।
বৈশাখী আয়োজনে রুচির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্রাইস রেঞ্জে কে-ক্র্যাফট তার শাড়ির কালেকশন সাজিয়েছে। সাদা, টকটকে লাল, ন্যাচারাল, লাল-মেরুন রংয়ে ডিজাইনকৃত বর্ণিল শাড়িগুলো পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন। প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকছে তাঁতের কৌশল ও ভ্যালু অ্যাডিশনের উপস্থাপনায়।
সালোয়ার-কামিজ
নরসিংদী তাঁতে বয়নকৃত সুতি টুটন স্ট্রাইপ, টুইল, গুড়িচেক, নাচনাকাঠি, কাঁথা, ডবি ও জ্যাকার্ড স্টাইলে ডিজাইন করা নিজস্ব উইভিং ডিজাইনের কাপড় এবং ইয়ার্ন ডায়েড ও ন্যাচারাল এন্ডি ও জয়সিল্কের কম্বিনেশনে সালোয়ার-কামিজের বৈশাখী আয়োজন থাকছে। সালোয়ার-কামিজের কালেকশনে রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোড়া, সাদা, লাল, মেরুন, ইটলাল, অরেঞ্জ, ম্যাজেন্টার নানা কম্বিনেশন। প্রধান উজ্জ্বল রং ব্যবহারে পোশাকগুলোকে উত্সবমুখী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যালু অডিশনের ক্ষেত্রে কর্ডের ব্যবহারে এম্ব্রয়ডারি ওয়ার্ক, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, কাঁথা স্টিচ, কারচুপির কাজ, টাই এন্ড ডাই, এম্ব্রয়ডারি ওয়ার্কের মাধ্যমে অলংকরণ করা হয়েছে পোশাকের সারফেস। কাজের ক্ষেত্রে প্রিন্ট এম্ব্রয়ডারি নানারকম বর্ডার বিডস ব্রোকেট লেদার রেকসিন, লেস কারচুপি ব্যবহার হয়েছে।
প্রচলিত মাধ্যমের নানা মাত্রিক ব্যবহার এ পোশাকগুলো নববর্ষের উত্সবের আমেজকে ফুটিয়ে তুলেছে রং, কাট ও উপস্থাপনার বৈচিত্র্যে। সালোয়ার-কামিজগুলো গরমে পরার উপযোগী, এলিগেন্ট এবং উত্সবমুখী।
মেয়েদের ফতুয়া-টপস
কে-ক্র্যাফটের বৈশাখী আয়োজনে উপস্থাপিত ফতুয়া ও টপসে দেখা যাবে কাটের বৈচিত্র্য, ফেব্রিক্স এ নিজস্ব উইভিং ডিজাইন। ভ্যালু এডিশন ও এক্সেসরিজ এ চমত্কারিত্ব। টপস ও ফতুয়ার ডিজাইনে হাতের কাজে শেডওয়ার্ক, কাঁথা কাজ, মানিকগঞ্জের ভরাট, এপলিকের কাজ করা হয়েছে। সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রংয়ে সিকোয়েন্স, বিডস ও হাজার বুটি করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান উপযোগী এন্ডি, জয় সিল্ক ও মসলিনে কাটে ভিন্নতা এনে এম্ব্রয়ডারি, মেশিন কাটওয়ার্ক ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে। কে-ক্র্যাফটের নববর্ষে মেয়েদের ফতুয়া ও টপসের নানা অপশন রয়েছে। দামের ক্ষেত্রেও সব ক্রেতার কথা বিবেচনা করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা উত্সবধর্মী গর্জিয়াস টপস/ফতুয়া পছন্দ করেন অথবা পরতে চান প্লেন, সিম্পল, এলিগেন্ট লুক তাদের সবার জন্য নানা রঙ, কাট ও বৈচিত্র্যে থাকছে টপস ও ফতুয়া।
শিশুদের জন্য আয়োজন
শিশুদের জন্য এই নববর্ষে কে-ক্র্যাফট করেছে বিশেষ আয়োজন। ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য থাকছে প্রায় ২৫টি নতুন ডিজাইনের পোশাক। শিশুদের সালোয়ার-কামিজ, মেয়েদের ফ্রক, স্কার্ট-টপস ও ফতুয়া থাকছে বিভিন্ন দামে; লাল, কমলা, হলুদসহ উজ্জ্বল নানা রংয়ে। এ পোশাকগুলো কটবেসডের পাশাপাশি এম্ব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, হাতের কাজ, প্রিন্টেড থাকছে। ছেলেদের থাকছে বৈশাখী ফতুয়া-প্যান্ট, শাট-প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবির কালেকশন। হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি কাজ, প্রিন্ট ও নানা মাধ্যমের ব্যবহারে তৈরি পোশাকগুলো উত্সবমুখী, আরামদায়ক এবং কাট ও ফিনিসে উন্নত। আমাদের এই যান্ত্রিক পরিবেশে ফোক মোটিফ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই বাচ্চাদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সার্কেলের মাঝে আবদ্ধ করতে চেষ্টা করেছি। এই বৈশাখে পোশাকের মাঝে উপস্থাপিত হয়েছে। শিরোনাম বা ক্যাপসন হিসেবে ফোক আর্ট মোটিফ সিরিজ—পাখা, কলস, পাখি, ড্রাই ফিস, ঘণ্টা, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, ঘুড়ি, হাঁস, মোরগ ও টমটম গাড়ি।
এছাড়া একোয়া ফিস, চিলড্রেন পেইটিং, ফোক আর্ট, পেঁচা, ঘুড্ডি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ফতুয়া, টি-শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি অলঙ্কিত করা হয়েছে। মাধ্যম হিসেবে স্ক্রিনপ্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি শামুক, ঝিনুক ব্যবহার, হ্যান্ড এপলিক ও সুতার কাজ করা হয়েছে ।
নববর্ষের পাঞ্জাবি
নববর্ষে পাঞ্জাবির ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কে-ক্র্যাফট। কাট, ফিনিসিং এক্সেসরিজের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ যন্ত নিয়ে পাঞ্জাবির ডিজাইন করা হয়েছে। সুতি, এন্ডি ও সিল্কে হাতের কাজ ও এম্ব্রয়ডারি কাজের পাঞ্জাবি থাকছে সাদা, মেরুন, ব্রিকরেড, কালোসহ নানা রংয়ে। প্রধানত জ্যামিতিক নকশায় কাঁথা, সাটিন স্টিচে অলঙ্কৃত এই কালেকশনটি সব বয়সী ক্রেতাকেই সন্তুষ্ট করতে পারবে। দামে থাকছে নানা রেঞ্জ। ফলে বাজেট উপযোগী পাঞ্জাবি পাবেন এখানে।
শর্ট পাঞ্জাবির বিশেষ অয়োজন থাকছে তরুণ মনের ক্রেতাদের জন্য। কাটে নতুনত্ব, উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য, রংয়ের বিন্যাসে চমত্কারিত্ব শর্ট পাঞ্জাবিতে দেখা যাবে। লেন্থে কিছুটা খাটো, ভ্যালু অডিশনে পরিমিতি বোধ, কলার-স্লিভ এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকছে শার্ট পাঞ্জাবিতে। এবারের বৈশাখে ছেলেদের পোশাকে আনা হয়েছে নানা রকম ভিন্নতা, ইসলামিক প্লান্ট মোটিফ, আর্চ গ্রিক মোটিফ, ন্যাচার সিরিজ, টেক্সটাইল ডিজাইন, ল্যান্ডস্কেপ, ফ্লাওয়ার মোটিভ, ছেলেবেলা সিরিজ, জীবনের হিসাব-নিকাশ, আনন্দ বেদনার টানপড়েন সিরিজ। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে জিপার এম্ব্রয়ডারি, বিডস, পুঁতি, কারচুপি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ, ভিন্ন লেআউটে প্যাচ ওয়ার্ক রেক্সিন, মেটাল ইত্যাদি। এছাড়া বুনন ও নকশায় শর্ট পাঞ্জাবিতে ব্যবহৃত উপকরণে থাকছে এক্সক্লুসিভিটি।
ছেলেদের ফতুয়া ও শার্ট
প্রধানত তরুণ মনের মানুষের কথা চিন্তা করে ডিজাইন করা ফতুয়ার কালেকশনটিতে ফেব্রিকের নানা ভ্যারিয়েশন থাকছে। স্ট্রাইপ, চেক, ইক্কাত, সলিড, জ্যাকার্ড ও ডবি বুননের ফতুয়াগুলো কাট ও ফিনিশে উন্নত। কাট বেসড ফতুয়ার পাশাপাশি ভ্যালু অডিশন হিসেবে এসেছে হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি, প্রিন্ট, ইরি কাজসহ নানা মিডিয়া। এছাড়াও কে-ক্র্যাফটে থাকছে স্ট্রাইপ, চেক শার্ট, প্রিন্ট শার্ট। প্রিন্টের শার্টে ব্যবহৃত হয়েছে জ্যামিতিক মোটিফ। ফতুয়া, শার্ট ও টি-শার্টে মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে টেরাকোটা মোটিফ ও লোকজ নানা মোটিফ।
কে-ক্র্যাফটের সব আউটলেটে বৈশাখী প্রদর্শনী চলছে। কে-ক্র্যাফটের আউটলেটের অবস্থান বনানী ১১ নম্বর রোড, নিউবেইলি রোড সরণি, রাইফেলস স্কয়ার, প্লাজা এ আর, সোবহানবাগ, মালিবাগ মৌচাকের কাছে, মিরপুর-২ স্টেডিয়ামের বিপরীতে, বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বসুন্ধরা সিটি লেভেল-২, দেশী দশ বসুন্ধরা সিটি লেভেল-৭, উত্তরা টাওয়ার, উত্তরা সেক্টর ৩, আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ ও চট্টগ্রাম দেশী দশ-এ। এছাড়া বৈশাখী আয়োজন দেখে নেয়া যাবে ওয়েবসাইটে।

ফ্যাশনের পাশাপাশি রোদ থেকে বাঁচতে সানগ্লাস

সানগ্লাস আমাদের ১২ মাস ফ্যাশনের একটি অংশ। সানগ্লাস ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণীরা গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত—সব ঋতুতে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কিন্তু চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সানগ্লাসের ব্যবহার ও বিক্রি বেশি লক্ষ্য করা যায়। সানগ্লাস চৈত্রের প্রচণ্ড রোদে চোখের পোশাকের কাজ করে। আমাদের দেহের পোশাক যেমন দেহকে সুরক্ষা করে, তেমনি সানগ্লাস ও আমাদের চোখকে সুরক্ষা করে। রাস্তার ধুলাবালি, পোকা-মাকড় ও সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে।
আমাদের দেশের মোটরসাইকেল আহরণকারী তরুণদের জন্য সানগ্লাস খুব প্রয়োজন। কারণ মোটরসাইকেল চলন্ত অবস্থায় বাতাসে ধুলাবালি এবং পোকা-মাকড় আমাদের চোখে এসে পড়তে পারে। এসব ধুলাবালি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে সানগ্লাস।
সানগ্লাস চোখের পোশাকের পাশাপাশি চোখের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।
কারণ সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি যা আমাদের চোখের কর্ণিয়া এবং রেটিনার ক্ষতি করতে পারে।
এ ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মিকে সানগ্লাস আমাদের চোখে পৌঁছতে দেয় না এবং প্রতিহত করে। বেলা ১১ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের আলোর তীব্রতা বেশি থাকে, তাই এ সময় সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীরা সানগ্লাস পছন্দ করে। আর তারা তাদের চেহারার মানানসই সানগ্লাস বেছে নিতে অবহেলা করে না। আমাদের দেশের ইয়াং জেনারেশন তাদের ড্রেসের সঙ্গে মানানসই একেক রকম সানগ্লাসের স্টক করে। ইয়াং জেনারেশনের পাশাপাশি ত্রিশোর্ধ্ব নারী-পুরুষও সানগ্লাস পছন্দ করেন। ত্রিশোর্ধ্ব লোকের সানগ্লাস পছন্দটা একটু ভিন্ন, তারা জোর দেন আরাম এবং স্টাইলের ওপর। এ শ্রেণীর লোকরা কালো, নীল, ব্রাউন কপি রংয়ের সানগ্লাস বেশি পছন্দ করেন। সানগ্লাস কেনার আগে কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করবেন—প্রথমে নজর দেবেন ফ্রেমের দিকে, যা আপনার চেহারায় ঠিকমত বসল কি-না। ফ্রেম কেনার সময় আপনার মুখের আকার দেখে ফ্রেম কিনুন। প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করুন। সানগ্লাসের গ্লাস সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ গ্লাস আপনাকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করবে। বাজারে নানা রং-বেরংয়ের সানগ্লাস পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ধূসর, কালো, সোনালি, বাদামি, হলুদসহ নানা রং। তবে কালো গ্লাসের সানগ্লাস আপনার চোখের জন্য বেশি উপযোগী।
দাম কেমন
কয়েকটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সানগ্লাস হচ্ছে—আরমানি, পুলিশ, ডিএনজি, রে বন, ওকলে, প্যারাডা ইত্যাদি। রে বন ব্র্যান্ডের সানগ্লাস পাবেন ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, গুচ্ছি পাবেন ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
সাধারণত নর্মাল ব্র্যান্ডের সানগ্লাস পাবেন ৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। সস্তা সানগ্লাসগুলো আপনার চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সানগ্লাস কেনার সময় একবার হলেও চোখের কথা চিন্তা করবেন। চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ।
কোথায় পাবেন
আপনার পছন্দ অনুযায়ী এবং বাজেটের মধ্যে সানগ্লাস কোথায় পাবেন বসুন্ধরা শপিংমল, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউমার্কেটসহ শহরের বড় বড় মার্কেট ও দোকানগুলোয় এবং কম দামের সানগ্লাস পেতে পারেন ফুটপাতে।
তরুণদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সানগ্লাস খুব পছন্দের। আর ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের লোকরা জোর দেন আরাম ও স্টাইলের ওপর অর্থাত্ রুচিসম্মত সানগ্লাসের ওপর। অমূল্য সম্পদ চোখের যত্ন নিতে আমরা ভালো ব্রান্ডের সানগ্লাস ব্যবহার করি, রুচি ও ফ্যাশন ফুটিয়ে তুলি সচেতনতার মাধ্যমে।

সৌন্দর্য প্রকাশে চোখের গুরুত্ব

চোখের আকারের ওপর নির্ভর করে আপনার চোখের সাজ। আপনার চোখ যদি হয় কিছুটা কোটরের ভেতর ঢোকানো, তবে আইশ্যাডো হওয়া চাই হালকা। চোখের পাতা ও ভেতরের দিকে হালকা আইশ্যাডো দিন। একটু গাঢ় আইশ্যাডো লাগান পাতার ওপরে, ভ্রুর নিচে। মাঝারি রং থেকে আরও একটু গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো লাগান চোখের বাইরের কোণে, একটু বাইরের দিকে টেনে। ভ্রুর নিচে একদম হালকা রংয়ের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন। আর ভ্রু যেখানে শেষ হয়, সেই লাইনটাতে খুব সরু করে সাদা আইশ্যাডো লাগান। এবার চিকন আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরের পাতায় নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত টেনে দিন। নিচের পাতায় চাইলে খুব সরু করে কাজল নিতে পারেন। নিচের পাতায় কাজল না দিয়ে শুধু মাশকারা লাগিয়ে নিতে পারেন। চোখের ওপরের পাপড়িতেও মাশকারা দিতে পারেন। এতে আপনার চোখ বড় ও সজীব দেখাবে।
এ ধরনের চোখের পাতায় ও কোটরের ওপরের অংশজুড়ে খুব গাঢ় আইশ্যাডো লাগাবেন না। এতে চোখ আরও ভেতরের দিকে মনে হবে।
দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি একটু বেশি হয়, তবে চোখের সাজ হওয়া উচিত এমন যাতে চোখ দুটি কাছাকাছি দেখায়। চোখের পাতার মধ্যভাগ থেকে ভেতরের অংশ পর্যন্ত একটু হালকা রংয়ের আইশ্যাডো দিন। চোখের মধ্যভাগ থেকে বাইরের দিকের অংশে একটু গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো দিন। এই দুই শেড চোখে ব্লেন্ড করে নিন। টেনে কাজল বা আইলাইনার দিন চোখের ভেতরের দিকের অংশে। চোখের ভেতরের অংশে ওপরে ও নিচে হালকা করে মিলিয়ে নিয়ে চোখ আঁকতে পারেন।
আপনার দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি কম হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা আইশ্যাডো দিন মাঝ বরাবর। এবার মধ্যাংশ থেকে বাইরের দিকে গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো দিন। দুটো রং ভালো করে মিলিয়ে দিন চোখের ওপরে। গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো চোখের কোণের বাইরে টেনে দিয়ে নিচের অংশের মাঝ বরাবর দিতে পারেন। আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের অংশ থেকে চোখের কোণের বাইরে পর্যন্ত টেনে দিন। বাইরের অংশটিতে একটু গাঢ় বা মোটা করে, একটু ওপরের দিকে টেনে দিতে পারেন। এভাবে আপনার চোখ টানা-টানা ও সুন্দর দেখাবে।
আপনার চোখের আকার যদি হয় নিচের দিকে নামানো, তবে আইশ্যাডো ওপরে এবং বাইরের দিকে টেনে দিতে হবে। চোখের ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের কোণ থেকে নিয়ে মধ্যভাগ পর্যন্ত গাঢ় আইশ্যাডো দিন। খেয়াল রাখবেন ওপরের অংশের গাঢ় আইশ্যাডো যেন টেনে নিচে নামিয়ে না আনা হয়। এবার চোখের ভেতরের অংশ থেকে আইলাইনার বা কাজল টেনে বাইরের অংশ পর্যন্ত দিয়ে একটু ওপরের দিকে ছড়িয়ে দিন। মধ্যভাগ থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত একটু মোটা করে নিন আপনার কাজল। চোখের নিচের পাতায় হালকা কাজল দিয়ে বাইরের কোণটি ওপরের কোণের সঙ্গে একটু ওপরে টেনে মিলিয়ে নিন। চোখের ওপরের পাতার পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে নিন।
আপনার চোখ যদি চিকন ধরনের হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে একটু হালকা শ্যাডো দিন। বাইরের অংশে গাঢ় শেড দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। আইলাইনার বা কাজল চোখে খুব একটা টেনে দেয়ার দরকার নেই। এতে চোখ আরও লম্বা দেখাবে। হালকা লাইনার বা কাজল অথবা এর বদলে কালো আইশ্যাডো দিয়ে ঘন করে মাশকারা নিতে পারেন।
যাদের চোখ একটু ফোলা ধরনের, তারা চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা, চোখের কোণ ও কোটরের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো দিয়ে চোখের ফোলা ভাব কমাতে পারেন। মোটা করে কাজল বা আইলাইনারও লাগিয়ে চোখের ফোলা ভাব কমানো যায়। যাদের চোখের কোণ ফোলা থাকে, তারা ওপরের ও নিচের পাতায় গাঢ় করে কাজল বা আইলাইনার টেনে একটু মোটা করে লাগাতে পারেন। আপনার চোখ যদি হয় গোলাকৃতির, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের অংশে গাঢ় আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন।
কাজল বা আইলাইনার চোখের ভেতরের কোণে হালকা করে লাগিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত চিকন করে টেনে লাগান। বাইরের কোণে কাজল একটু মোটা বা ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেন। চোখের নিচের পাতার কোণের সঙ্গে কাজল টেনে ওপরের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিন।
আইশ্যাডো ব্যবহার করতে না চাইলে মুখে হালকা ফেস পাওডার দিয়ে চোখে শুধু কাজল দিয়েও হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া সুন্দরী। প্রসাধনীতে সুরমার প্রচলন এখনও আছে। টেনে সুরমা দিলে চোখ টানা টানা লাগে। আবার হালকা করে চোখের ওপরের পাতায় কাজলের সঙ্গে মাশকারা লাগাতে পারেন।
চোখ যদি মাঝারি আকারের হয়, তবে আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের কোণ থেকে টেনে নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত লাগান। ভেতরের দিকে ওপরের ও নিচের পাতায় কাজল দিয়ে চোখ টেনে একে নিন। আবার বাইরের কোণেও একটু বাড়িয়ে ওপর দিকে কাজল দিন। চোখের নিচের পাতার মাঝ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত একটু মোটা করে ওপর দিকে টেনে কাজল দিন। এতে চোখ টানা টানা ও ভাসা ভাসা লাগবে।
আজকাল চোখের সঙ্গে স্মোকি আইস বা কালো ধরনের মেকআপ খুব প্রচলিত। এতে প্রথমে চোখের পাতায় একটি বেজ লাগিয়ে নিন। হালকা বাদামি রংয়ের শেড দিন বাইরের কোণ থেকে চোখের কোটরের ওপর দিয়ে ভেতর পর্যন্ত। একটু কালো বা গাঢ় বাদামি রংয়ের শ্যাডো লাগান চোখের পাতার বাইরের কোণ থেকে ভেতরে চোখের কোটরের লাইন বরাবর। আইলাইনার বা কাজল লাগান গাঢ় করে, চোখের পাতার ভেতরের অংশ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত। নিচের পাতায় কাজল দিন। কাজলের বদলে আইশ্যাডো দিতে পারেন। ভ্রুর নিচে একটু হালকা সোনালি আইশ্যাডো দিন।
চোখে ভাসা ভাসা একটা ভাব আনতে চোখের ওপর-নিচের পাতায় কাজল দিন। এবার আঙুল দিয়ে চোখের ওপরের পাতার কাজল একটু ওপরের দিকে ঘষে মিশিয়ে দিন।
চোখের সাজ আরও আকর্ষণীয় করতে আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন রংয়ের লেন্স পরতে পারেন। চোখের সাজ আপনার পোশাকের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। ভ্রুর ক্ষেত্রে কাজল ব্যবহার না করে, বাদামি ভ্রু পেনসিল বা বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। এ ছাড়া চোখ আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহার করতে পারেন আলগা আইল্যাশ। আপনার চোখ ও মন বুঝে নিতে পারেন একেক ধরনের সাজ। কখনও চিকন, কখনও বা ষাটের দশকের নায়িকাদের মতো টেনে কাজল দিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারেন দৃষ্টিনন্দিত।

খাটো চুলের কাটছাঁট

বসন্ত এখনো যায়নি। কিন্তু গরমের আঁচ ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে। গরমের সঙ্গে সঙ্গে চুলের কাটছাঁটেও চলে এসেছে পরিবর্তন। যাঁরা খাটো চুল রাখতে চান, তাঁদের জন্য চুল কীভাবে কাটা হচ্ছে, তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মানানসই কাট চাই। এই গরমে নতুন কিছু চুলের কাটের হদিস দিলেন রূপ বিশেষঞ্জ তানজিমা শারমিন।
চেহারায় নতুনত্ব চাই। নতুন লুক আনার এই ইচ্ছাটি পূরণ করতে সুন্দর চুলের একটি কাটই যথেষ্ট। তবে যে স্টাইলেই চুল কাটান না কেন, আপনার সঙ্গে মানানসই না হলে সব চেষ্টা বৃথা। চুল কাটার সবচেয়ে বড় শর্তই হচ্ছে এটি। আপনার জীবনযাপন, ব্যক্তিত্ব, চেহারা এবং সামলানোর ক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই চুল কাটা উচিত। ‘অনেকে চুল কপালের ওপর রাখতে পছন্দ করে, অনেকে করে না। কেউ বা বড় চায়, অন্যরা ছোট চুলেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অন্যজনেরটা দেখে নয়, বরং যেটা আপনার চেহারায় ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলবে সেভাবেই কাটা উচিত।’ বললেন তানজিমা শারমিন।

ছোট চুলের ঠাটবাট ব্ল্যাংক কাট
কমবয়সী মেয়েদের জন্য এ কাটটি মানানসই। ঢেউ খেলানো অথবা সোজা চুলের সৌন্দর্য বাড়াবে এটি। ওভাল, গোলাকার এবং চারকোনা চেহারায় ভালো লাগবে এ কাটটি। তবে লম্বা চেহারায়ও মন্দ লাগবে না। সে ক্ষেত্রে চুল একটু বেশি লম্বা হলে ভালো।

সামার কাট
পেছনে ছোট রেখে সামনের দিকে একটু বড় রাখার স্টাইলটি সামার কাট। গোলাকার চেহারা, স্বাস্থ্য একটু ভালো এবং সোজা চুলের অধিকারীদের বেশ মানাবে কাটটি। তবে চুল যদি হয় রিবন্ডিং করা, তাহলে এ কাটের দিকে না যাওয়াই ভালো।

পিক্সি কাট
চুলগুলো খুব একটা গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করেন না অনেকেই। তাদের জন্য পিক্সি কাট। ঘাড় পর্যন্ত চুল রেখে সামনের দিকে কপাল ঢেকে রাখবে এটি। কানের দুই পাশ দিয়েও থাকবে ছন্দময় কাট। টিন-এজারদের জন্য কাটটি বেশি মানানসই। পাশ্চাত্য পোশাক এবং শাড়ির সঙ্গে দেখতে ভালো লাগবে। যাদের উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির বেশি, তারা এ কাটটিতে না গেলেই ভালো। ঢেউ খেলানো চুলে মানাবে ভালো।

বব কাট/ক্লাসিক বব কাট
টিন-এজারদের বব কাটটি ভালো মানাবে। সব ধরনের চেহারার সঙ্গেই যাবে এটি। একটু বয়স্কদের জন্য ক্লাসিক বব কাট বেশি মানানসই। এ ছাড়া যাদের চেহারা লম্বাটে ধাঁচের, তাদের জন্যও কাটটি মানানসই।

মাঝারি কাটের সৌন্দর্য শ্যাগি
পিক্সি কাটের আকারেই কাটা হবে এটি। তবে লম্বায় কিছুটা বড় থাকবে। ঢেউ খেলানো এবং সোজা চুলে ভালো লাগবে। এ কাট সব ধরনের চেহারার সঙ্গেই ভালো লাগবে।

ইমো কাট
ফাংকি ফ্যাশনেবল স্টাইল—ইমো কাটকে এভাবেও বলা যায়। টিন-এজ মেয়েদের জন্য এটি বেশি মানানসই। ওপরের দিকের চুল ছোট করে কাটা থাকবে। একটি চোখ প্রায় পুরোটাই ঢাকা থাকবে ব্যাংগস করে কাটা চুলের নিচে। পেছনের চুলে অনেক বেশি লেয়ার থাকবে। সোজা এবং ঢেউ খেলানো চুলে বেশ ভালো লাগবে এটি। ইমো কাটের সঙ্গে মোটা করে কাজল লাগালে দেখতে সুন্দর লাগবে বলে জানান তানজিমা শারমিন। ইমো কাটে পেছনের চুল অন্তত ঘাড় পর্যন্ত যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

কোঁকড়া চুলের মোহনীয়তা
কোঁকড়া চুলের সৌন্দর্যই অন্য রকম। এ চুলের অধিকারীরা চুল নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করলেই ভালো। স্টে লেয়ার কাটে থাকলেই দেখতে বেশি ভালো লাগবে। সেটা যেকোনো চেহারার সঙ্গেই মানিয়ে যাবে। তবে চেহারাবিশেষে চুল একটু ছোট-বড় হবে।
যাদের চেহারা ও গলাও লম্বা, তারা অন্তত ঘাড় পর্যন্ত চুলের কাটটি রাখুন। লম্বা ও একটু ভরাট চেহারায় একটু ছোট কাট রাখুন। গোল চেহারায় ঘাড় থেকে শুরু করে যতটা ইচ্ছা নিচ পর্যন্ত রাখতে পারবেন। গোল চেহারা এবং উচ্চতায় ছোট যারা, তাদের ছোট স্টেপ ভালো লাগবে।
ব্যাংগসের জাদু
ওভাল চেহারায় ব্যাংগস মানানসই। উচ্চতায় ছোট যারা, তারা একটু ছোট করে, আর যারা লম্বা তারা একটু লম্বা রাখতে পারে। ব্যাংগস বিভিন্নভাবে কাটা যায়। সাইড ব্যাংগস, সোজা ব্যাংগস, ছোট ব্যাংগস, বড় ব্যাংগস, পুরো কপাল ঢেকে রাখার ব্যাংগস।

স্কুলপড়ুয়াদের উদ্দেশে
তানজিমা শারমীন জানান, স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের উচিত যতটা সম্ভব সাধারণভাবে চুল কাটা। লেয়ার, ব্যাংগস, স্টেপ যতটা সম্ভব কম করতে হবে। এতে করে টিন-এজ লুকটি বজায় থাকবে।
এই গরমে চুলের যত্ন নিন বিশেষভাবে। তৈলাক্ত খাবার কম খাবেন। পানি, সবজি, ফল বেশি করে খান। প্রয়োজন হলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন। চুল পরিষ্কার রাখতে হবে ঠিকমতো। তিন-চার মাস পরপর শ্যাম্পু বদলে ফেলুন।

মশারিটা জরুরি

এ সময় বাড়ছে মশার প্রকোপ। মশার হাত থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত।তবে যেমন-তেমন একটি মশারি কিনলেই তো চলে না। বর্ণিল আর নানা ডিজাইনের বদলে যাঁরা হালকা রং আর সাদামাটা ধরনের মশারি খোঁজেন, তাঁরা কিনে কিংবা বানিয়ে নিতে পারেন।
মশারি কিনতে বা বানিয়ে নিতে পারবেন ঢাকার নীলক্ষেতের বেডিংয়ের দোকানগুলো থেকে। নীলক্ষেতে অবস্থিত দুবাই বেডিং স্টোরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘বানানো মশারি সিঙ্গেল, সেমিডবল, ডবল ও কিং—এই চার আকারের বিছানার জন্য। এর মধ্যে আবার দুই মানের মশারি রয়েছে। সিঙ্গেল সাধারণ মানের মশারি ১৫০ আর অপেক্ষাকৃত উন্নতমানেরটির দাম ২৮০ টাকা। সেমিডবল মশারি ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা। ডবল মশারি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। কিং আকারের মশারি ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। তবে মশারির মান নির্ভর করে কাপড় আর সেলাইটা কেমন, তার ওপর।
যাঁরা তৈরি (রেডিমেড) মশারি ব্যবহার করতে চান না, তাঁরা চাইলে কাপড় কিনে মশারি বানিয়ে নিতে পারেন। নীলক্ষেতের সোবহান বেডিং স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মাদ হারুন বলেন, ডবল মশারি বানাতে কাপড় লাগে ১৩ গজ। সিঙ্গেল মশারি বানাতে লাগে ১০ গজ। প্রতি গজ কাপড় কেনা যাবে ২২ থেকে ৩৫ টাকায়। আর দর্জির মজুরি পড়বে ১০০ টাকা। তৈরি মশারি কিংবা কাপড় কিনতে পারবেন নীলক্ষেত, গুলিস্তানের বঙ্গমার্কেট, নিউমার্কেট ও ইসলামপুর থেকে।
মশার হাত থেকে ছোট্ট সোনামণিকে সুরক্ষিত রাখার কথাও তো ভাবতে হবে। নিউমার্কেটে অবস্থিত শিশুপণ্যের দোকান রবিনসন্সের মালিক মোহাম্মাদ নাইম বলেন, ছোট্টমণির জন্য নানা আকার আর ডিজাইনের মশারি পাওয়া যায়। কোনোটা লোহার ছয় শিকের সঙ্গে নেট পেঁচানো, যার দাম ১৫০ টাকা। কোনোটা চেইন দিয়ে ঘরের মতো করে তৈরি, এর নাম স্প্রিং। দাম পড়বে ৩০০ থেকে এক হাজার টাকা। ছাতার মতো খুলে কিছু মশারি ব্যবহার করা যায়, দাম ৩০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

বৈশাখে পোশাকের আয়োজন

বাংলা নববর্ষ উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাশন হাউসগুলোও সেজে উঠছে বৈশাখী রঙে, বৈশাখীঢঙে। তারই কিছু নমুনা থাকছে এখানে

অ্যান্ডেজ
‘রবি রাগ’ বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস অ্যান্ডেজের নতুন সংযোজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রোমান্টিক কাব্যের ছোঁয়া পাওয়া যাবে এতে। সাদা জামদানির ওপর প্রাধান্য পেয়েছে লাল ও কালো রঙের কাজ। ছেলেদের পোশাকে লাল, সাদা ও কালো খাদির শেরওয়ানির সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাদা চুড়িদার। শিশুদের জন্যও থাকছে বিশেষ বৈশাখী আয়োজন।

রঙ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে এবারের বৈশাখে ফ্যাশন হাউস রঙের পোশাকে আনা হয়েছে রাবীন্দ্রিক সাজ। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টুপি, ব্যাগ, কোটি, গয়না, টি-শার্ট ইত্যাদি পোশাকে প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সেই সময়কে। বৈশাখে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে কেনা যাবে এসব পণ্য।


অঞ্জন’স
অঞ্জন’স এনেছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ওড়না, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শার্টসহ শিশু-কিশোরদের পোশাক। বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা পাওয়া যাবে এই আয়োজনে।

নগরদোলা
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নকশিকাঁথার নকশায় পোশাক সাজিয়েছে নগরদোলা।
কাপড় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সুতি, তাঁত, ভয়েল, খাদি, মসলিন, এনডি হাফ সিল্ক প্রভৃতি। পাওয়া যাবে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, ছেলেদের ফতুয়া, মেয়েদের ফতুয়া, স্কার্ট, টপস, শার্ট, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া।

শৈশব
নতুন বছরে শিশুদের জন্য ব্লাউজপিসসহ বৈশাখী শাড়ি, কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, স্কার্ট-টপ, টি-শার্ট, ফ্রক, ধূতি পাঞ্জাবি সেট এনেছে ফ্যাশন হাউস শৈশব।

কে ক্র্যাফট
বৈশাখে কে ক্র্যাফট তাঁতে বোনা সুতি কাপড়ে টুটন স্ট্রাইপ, টুইল, গুড়িচেক, নাচনাকাঠি, কাঁথা, ডবি ও জ্যাকার্ড স্টাইলে সালোয়ার-কামিজ এনেছে।রং হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে কোড়া, সাদা, লাল, মেরুন, ইটলাল, কমলা। পোশাকে আছে এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, কাঁথা ফোঁড়, কারচুপি, টাই-ডাই ইত্যাদির কাজ।