Wednesday, March 30, 2011

ওজন কমাতে সাইকেল চালনা

চিকিত্সা সাময়িকী ‘আর্কাইভস অব ইন্টারনাল মেডিসিনে’ প্রকাশিত এক গবেষণা মতে, সাইকেল চালানো মধ্যবয়সী নারীদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, সাইকেল চালানোতে সামান্য সময় বেশি দিলেই চাহিদামত ওজন কমানো যায়। গবেষণাটি শেষ করতে গবেষকরা ১১৬ ও ৬০৮ জন মহিলার তথ্যসংবলিত একটি গবেষণা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এতে অংশগ্রহণকারী মহিলারা ১৯৮৯ সাল থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক আচরণ, চিকিত্সা, ইতিহাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি। বিশেষ এ গবেষণা থেকে গবেষকরা ২৫ থেকে ৪২ বছর বয়সী মহিলাদের ব্যায়াম এবং তাদের ওজনের পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
শেষদিকে গবেষকরা দেখেছেন, ১৯৮৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মহিলাদের গড়ে ২১ পাউন্ড ওজন বেড়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তারাই, যারা দিনে ৩০ মিনিট করে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেছেন। এ ধরনের সুবিধা পেতে মহিলাদের হঠাত্ই কোনো শারীরিক পরিশ্রমে জড়িত হওয়ার প্রয়োজন নেই বরং যাদের খুব ধীরে ওজন বেড়েছে তারা নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম যেমন—দ্রুত দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি কাজগুলোই করেছেন।
ব্যায়ামের প্রভাব খতিয়ে দেখতে গিয়ে গবেষকরা বিশেষভাবে লক্ষ রেখেছেন সাইকেল চালানোর দিকে। গবেষকরা দেখেছেন, একজন মহিলা যত বেশি সময় ধরে সাইকেল চালিয়েছে তার ওজন তত ধীরে বেড়েছে।
তবে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়, খুব কম মহিলাই সাইকেল চালানোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন বরং বেশিরভাগ মহিলা তাদের ব্যায়াম হিসেবে হাঁটাহাঁটিকেই পছন্দ করেন। এর কোনো বিশেষ কারণ এখনও অজানা। হতে পারে হাঁটাহাঁটির এখনও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অথবা সাইকেল চালানো নিয়ে তেমন কোনো গবেষণা না হওয়ার কারণে।
তবে একথাও ঠিক, বেশিরভাগ মহিলার সাইকেল চালানোর তেমন কোনো সুবিধাজনক জায়গা থাকে না। অথচ সাইকেল চালানো হাঁটার মতোই একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়াম। গবেষকরা আশাবাদী, অনেক মহিলাই ব্যায়ামের এ মাধ্যমটিকে বেছে নেবেন। আরও বিশেষভাবে বললে, তারা তাদের চলাচলের মাধ্যম হিসেবে সাইকেলকেই বেছে নেবেন, যাতে তাদের সময়ও বেঁচে যায়। তারা স্কুল কিংবা কাজের জায়গাগুলোয় যাতায়াতের জন্য সাইকেলকে বেছে নিতে পারেন। এতে লাভ দুটি, তাদের প্রধান লক্ষ্য গন্তব্যস্থানে যাওয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি তাদের ব্যায়ামও হবে—যেটা তাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।

গরমে ছিমছাম সারাদিন

সকালবেলা ছিলেন পরিপাটি। চোখে-মুখে প্রসাধনের হালকা ছোঁয়া। ব্যস, বেরিয়ে পড়লেন কাজের উদ্দেশ্যে। বেলা গড়াতে থাকল। দিন শেষে দেখলেন, চেহারার সেই পরিপাটি ভাবটি আর নেই। লিপস্টিক আর কাজলও হয়তো লেপটে গেছে। মনই খারাপ হয়ে যায়। নিজের ওপর বিরক্ত লাগে। তখন একটু সাজসজ্জা না করলে সারাদিনের ক্লান্তিটা ঢাকা পড়ে না। কীভাবে তা করবেন, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো।
খুব গরম না থাকলেও আবহাওয়া এখন গরম। ফলে মেকআপ করতে হবে সে অনুযায়ী। সকালে যেভাবে সেজে বেরিয়েছিলেন, সেভাবেই মেকআপ ঠিকঠাক করে নিতে হবে।
সকালে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। এরপর পাউডার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। এটি না করতে চাইলে শুধু ফেস পাউডার লাগিয়ে বের হতে পারেন। চোখে হালকা রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। সঙ্গে কাজল আর আইলাইনার নিতে ভুলবেন না। তবে খুব গরম, বৃষ্টি বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান না থাকলে পানিরোধী কাজল, মাশকারা ও আইলাইনার ব্যবহার না করাই ভালো। সারা দিনের ঘাম আর গরমে হয়তো মুখ তৈলাক্ত হয়ে যায়। তখন চেহারায় সকালের সেই স্নিগ্ধ ভাবটি থাকে না। সে সময় ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার দরকার নেই। এতে করে নিজেকে আবার তৈরি করতে বেশ সময় লাগে। সে কারণে ফেসিয়াল ওয়াইপস বা ওয়েট টিস্যু দিয়ে শুধু মুখটা মুছে নিন। চোখের অংশে হাত দেবেন না। কোনো ময়েশ্চারাইজার লোশন লাগিয়ে নিন। এরপর ব্যবহার করুন ফাউন্ডেশন। এর পরিবর্তে আপনি টিনটেন্ড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন, যা ফাউন্ডেশনের মতো কাজ করবে। যদি রাতের দিকে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হয়, তাহলে স্পঞ্জ সামান্য ভিজিয়ে ফাউন্ডেশন নিয়ে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে মেকআপ একটু জমকালো হবে। এরপরও মুখ যদি তৈলাক্ত হয়ে যায়, তাহলে ব্লটিং পেপার দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে তেল বা ঘাম উঠিয়ে নিন। আপনি চাইলে স্টিক ফাউন্ডেশনও ব্যবহার করতে পারেন। তবে তরল ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা উচিত নয়। সংবেদনশীল ত্বকে বা যাদের ব্রণ ওঠার প্রবণতা আছে, তাদের জন্য মেডিকেটেড কনসিলার উপযুক্ত। মেকআপ বেশি হয়ে গেলে টিস্যু পেপার দিয়ে হাল্কাভাবে মুছে নিতে পারেন। এরপর ব্রাশ দিয়ে লুজ পাউডার দিতে হবে। পাউডার ব্লাশ-অনই বেশি ব্যবহার করে সবাই। ক্রিম ব্লাশ-অনও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাঢ় গোলাপি (ডাসকি পিঙ্ক) রংটাকে প্রাধান্য দিলে চেহারায় একটা উজ্জ্বলতা দেখা দেবে। এটা লাগাতে হবে গালের হাড় বা চিকবোনের ওপর থেকে নিচের দিকে।
দিনেরবেলা ম্যাট ধরনের হালকা রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করা উচিত। তবে রাতে বা সন্ধ্যার পার্টির জন্য গাঢ় শ্যাডোই ভালো হবে। কাজল বা আইলাইনারের ওপর দিয়ে আরেকবার এঁকে দিন। কাজল লেপটে গেলে আলতো করে মুছে নিয়ে আবার লাগিয়ে নিন। কাজল, আইলাইনার একসঙ্গে মিশিয়ে স্মোকিং লুক দিতে পারেন চোখে। গ্লিটার দেয়া আইলাইনার ব্যবহার করলে আর কিছু না লাগানোই ভালো।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সকালে ঠিকই রাঙিয়ে ছিলেন ঠোঁটকে। কিন্তু দিন শেষে তা মিলিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে আপনি লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে নিতে পারেন। এরপর একই রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এতে করে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। ঠোঁট শুষ্ক হলে একটু লিপজেল বা বাম আগে লাগিয়ে নিন। দিনেরবেলা ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। হালকা গোলাপি, ধূসর বাদামি, মভ রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে রাতেরবেলা গ্লসি লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। ঘামে চুল তৈলাক্ত হয়ে গেলে ট্যালকম পাউডার সামান্য পরিমাণে চুলের গোড়ায় দিয়ে উল্টো করে চুলটাকে আঁচড়ে ফেলুন। এতে চুলে ঝরঝরে ভাব আসবে। এরপর আপনার পছন্দ ও অনুষ্ঠানের উপযোগী করে চুলগুলো বেঁধে ফেলুন। হালকা কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করুন। হয়ে গেল সাজ। তবে মনে রাখতে হবে, কর্মজীবী মেয়েদের ব্যাগে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রসাধনসামগ্রী থাকা উচিত। তাহলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না। সারাদিন থাকতে পারবেন ছিমছাম।



কুটুমবাড়িতে গ্রামের খাবারকুটুমবাড়ি তার শহরের কুটুমদের জন্য এনেছে নতুন একটি খাবারের প্যাকেজ। নাম গ্রামের খাবার। শুধু নামেই গ্রামের খাবার নয়, এ প্যাকেজে রয়েছে গ্রামের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার। আর এসব খাবার খেতেও হবে মাটির পাত্রে। এ প্যাকেজে থাকছে সাদা ভাতের সঙ্গে প্যাকেজ-১ : শনিবার চিংড়ি ভর্তা, আলু ভর্তা, বরবটি ভর্তা, ঢেঁড়স ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-২ : রোববার টাকি ভর্তা, টমেটো ভর্তা, পেঁপে ভর্তা, করলা ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-৩ : সোমবার শুঁটকি ভর্তা, কাঁচকলা ভর্তা, ডাল ভর্তা, শিম-আলু ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-৪ : মঙ্গলবার চিংড়ি ভর্তা, ঢেঁড়স ভর্তা, ধনেপাতা, মিষ্টি কুমরা ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-৫ : বুধবার টাকি ভর্তা, থানকুনি পাতা ভর্তা, মরিচ-পেঁয়াজ ভর্তা, চিচিঙ্গা ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-৬ : বৃহস্পতিবার শুঁটকি ভর্তা, ডিম ভর্তা, কালোজিরা ভর্তা, বাঁধাকপি ভাজি, ডাল ও সবুজ সালাদ। প্যাকেজ-৭ : শুক্রবার টাকি ভর্তা, শিম ভর্তা, আলু ভর্তা, মুড়িঘণ্ট, ডাল ও সবুজ সালাদ। খাওয়া যাবে প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্যাকেজ মূল্য মাত্র ১০৯ টাকা। উল্লেখ্য, কুটুমবাড়ি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একটি প্রতিষ্ঠান। কুটুমবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজে খাবারের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী সব খাবার খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ঠিকানা : কুটুমবাড়ি, ২/১২ ব্লক-এফ (লালমাটিয়া মহিলা কলেজের পাশে), লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭। ফোন : ০১১৯৫-৩৮১৬৩০, ০১১৯৭-২৩৫৬৮৪।

গরমে আরামদায়ক পোশাক

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় উত্তরাঙ্গন বুটিক। সেই ধারাতেই এ গরমে উত্তরাঙ্গন বুটিক নিয়ে এসেছে গরমের বেশকিছু নতুন পোশাক। উত্তরাঙ্গন বুটিকের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক ও স্বত্বাধিকারী দেশের স্বনামধন্য ত্বকবিশেষজ্ঞ ডা. জাকিয়া মাহফুজা হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমি একজন ত্বকবিশেষজ্ঞ তাই চাই এদেশের মানুষের জন্য ত্বকের সঙ্গে সহনীয় ফেব্রিক্স ও রং ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করতে। আমাদের দেশের মানুষের ত্বকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ত্বকবান্ধব সুদৃশ্য পোশাক তৈরি-ই উত্তরাঙ্গন বুটিকের মুখ্য উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যেই আমরা নিয়ে এসেছি গরম উপযোগী ও ত্বকবান্ধব বেশকিছু এক্সক্লুসিভ শাড়ি।’ এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে ত্বক উপযোগী নতুন ডিজাইনের এক্সক্লুসিভ শাড়ি, বাহারি থ্রি-পিস, ফতুয়া এবং ছেলেদের জন্য ফতুয়া, শর্ট, পাঞ্জাবি, কর্তা ও আঙরাখা। উল্লেখ্য, উত্তরাঙ্গন বুটিকে রয়েছে নিজের মতো পোশাক তৈরির সুবিধা।
ঠিকানা : উত্তরাঙ্গন বুটিক—বাড়ি-১২, সোনারগাঁও রোড, সেক্টর-৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০। ফোন : ০২-৮৯২০৫৩৩, ০১৯২৬ ৫৯০০৫৩।

অনলি ওয়ান

এই গরমে অনলি ওয়ান শার্ট নিয়ে এসেছে গরমের এক্সক্লুসিভ শার্ট। এদেশের গরমের কথা মাথায় রেখে ভিন্নতা আনা হয়েছে ডিজাইন ও রংয়ের ব্যবহারের ক্ষেত্রে। উন্নতমানের কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে হাফহাতা ও ফুলহাতা এক্সিকিউটিভ ও ক্যাজুয়াল শার্ট । অনলি ওয়ানের শার্ট পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শার্টের শোরুমে। কারণ এ প্রতিষ্ঠান শুধু পাইকারি বিক্রয় করে থাকে। সারা দেশে কোথাও তাদের কোনো নিজস্ব শোরুম নেই। অনলি ওয়ান গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মো. মঈনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব শোরুম না থাকলেও সারাদেশে বিভিন্ন বড় শোরুমে আমাদের শার্ট পাওয়া যায়। আগ্রহী ক্রেতারা সেখান থেকে সহজেই অনলি ওয়ানের শার্ট কিনতে পারবেন।’ উল্লেখ্য, সারাদেশের পাইকারদের যোগাযোগরে জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। ঠিকানা : ৩৯ মেহেরবান মার্কেট (৪র্থ তলা), উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা ও ১৪৭ নগর প্লাজা (আন্ডার গ্রাউন্ড) ফুলবাড়িয়া, ঢাকা। ফোন : ০১৭৩৭৩৫৫০৬৫ ওয়েব সাইট .িড়হষুড়হবনফ.পড়স, ঐড়ঃষরহব-০১৬১ঙঘখণঙঘঊ

মুসলিম কালেকশন

আসছে গরমে স্বনামধন্য ফ্যাশন হাউস মুসলিম কালেকশন নিয়ে এসেছে বেশকিছু নতুন ডিজাইনের এক্সক্লুসিভ শার্ট। শার্টগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে সময়োপযোগী কাপড়। রং ও ডিজাইনের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে গরমের উপযোগিতা। সম্পূর্ণ নিজস্ব ডিজাইনার দ্বারা ডিজাইনকৃত এসব শার্টে ব্যবহার করা হয়েছে স্ট্রাইপ, জ্যামিত্যিক কলার, বৃত্তপ্রিন্টসহ নানা ধরনের ডিজাইন। তারুণ্যর প্রিয় ব্র্যান্ড মুসলিম কালেকশনের শার্টগুলো পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগের ঠিকানা মুসলিম কালেকশন, ২৭ মাহবুব আলম শপিং কমপ্লেক্স (নিচতলা), পূর্ব আগানগর, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা। ফোন : ০১৭৩৭৭৩০৩১৩।

বালুচর

ফ্যাশন হাউস বালুচর বৈশাখ উপলক্ষে নিয়ে এসেছে বেশকিছু ঋতুভিত্তিক পোশাক। মোটিভ হিসেবে প্রকৃতি, নীল ও সবুজের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। পোশাক হিসেবে রয়েছে মেয়েদের টপস, ওড়না, সালোয়ার-কামিজ, লেডিস ফতুয়া ও শাড়ি। ছেলেদের জন্য রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শর্ট-পাঞ্জাবি। প্রতিটি পোশাকের কাটিংয়ে আনা হয়েছে ভিন্নতা। পোশাকে রয়েছে দেশীয় ও ওয়েস্টার্ন লুক। খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়। শোরুম : ১. ৮১ আজিজ সুপার মার্েকট, ৩য় তলা। ২. গ্র্যান্ড প্লাজা, লেভেল-২, ২২৭, দোকান-২১৫, বড়মগবাজার, ওয়ারলেস গেট। মোবাইল : ০১৭১৬৫৫৬২৭১

কারখানা

ফ্যাশন হাউস কারখানা এবারের আয়োজনে নিয়ে এসেছে নান্দনিক পোশাক। কারখানা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে নানা রকম পোশাক নিয়ে তার গ্রাহকের সামনে হাজির হয়ে থাকে। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কারখানা তারুণ্যের কথা মাথায় রেখে সুতি কটন ও গ্যাবাডিং কাপড়কে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এসর পোশাকের ডিজাইন করে থাকে আল আমিন ও মাসুদ রানা।
তাদের ডিজাইনকৃত পোশাকের মধ্যে রয়েছে টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, শার্ট, হাফহাতা শার্ট, ফুলহাতা শার্ট প্রভৃতি। খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করা হয়। ৭৭ আজিজ সুপার মার্কেট, ২য় তলা। মোবাইল : ০১৭১১১৫৯৮৬৩
তানহা
তানহা বুটিক হাউসটি এরই মধ্যে তারুণ্যের পোশাক তৈরি করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বুটিকটি তার আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতে বসুন্ধরায় নতুন একটি শোরুম চালু করেছে ৩ মার্চ বুধবার থেকে। এ সময় তানহা বুটিক ও ফ্যাশন নিয়ে এসেছে গরমে আরামদায়ক ও সময়ের সঙ্গে মানানসই।
সুতি, সিল্ক, অ্যান্ডি, শিফন, জর্জেট কাপড়সহ পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে কুমিল্লা, চান্দিনা ও টাঙ্গাইলের তাঁতের কাপড়। ছয়টি রংয়ের সুতা দিয়ে করা হয়েছে মেশিন এম্ব্রয়ডারি ও হাতের কাজ। কিছু সালোয়ার-কামিজে আছে জরি, চুমকি ও মিররের কাজ। রং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মেজেন্ডা, সাদা, কালো, নীল, সবুজ, হলুদ, অ্যাশ, গোলাপি ও বেগুনি ইত্যাদি। কাটিং ও ডিজাইনে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য। দাম পড়বে ৭৫০ থেকে ৫ হাজার ৫৫০ টাকা।
এ সময়ের পোশাকগুলো পাওয়া যাবে তানহার তিনটি শোরুমে। ক. দোকান ১৫-১৬, লেভেল-৩, ইস্টার্ন মল্লিকা, এলিফ্যান্ট রোর্ড, ঢাকা। খ. বসুন্ধরা সিটি : দোকান ৫৫-৫৬, ব্লক-সি, লেভেল-৩। গ. সিলেট সিটি সেন্টার সোপ : ৩০২ (২য় ফ্লোর), জিন্দাবাজার, সিলেট।
ব্যাঙ
ফ্যাশন হাউস ব্যাঙ প্রতিটি উত্সবে রকমারি আয়োজন করে থাকে। ব্যাঙে রয়েছে তরুণদের পছন্দের সব রকমের পোশাক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শার্ট, টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শর্টপাঞ্জাবি ইত্যাদি। ব্যাঙে এখন চলছে বিশেষ ছাড়। আপনার পছন্দের পোশাকটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন : ঢাকা শোরুম, বসুন্ধরা সিটি, মেট্রো শপিংমল, এলিফ্যান্ট রোড, রাইফেল স্কয়ার, হাটখোলা (টিকাটুলি-২), আজিজ সুপার মার্কেট। সিলেট ব্রাঞ্চ : বারুদখানা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার ও কুমারপাড়া।

দর্জি বাড়ি

গরমে দর্জি বাড়ি তার ফ্যাশনে এনেছে ভিন্নতা। ফ্যাশন হাউসটি তার পোশাকে তারুণ্যের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়েছে। এখানে পাওয়া যাচ্ছে শার্ট, টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শর্টপাঞ্জাবি ইত্যাদি। আপনার পছন্দের পোশাকটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন : বসুন্ধরা সিটি, মিরপুর-১০ নম্বর, মৌচাক মোড়, উত্তরা।

জীনাত ফ্যাশনে ছাড়

গরম পুরোপুরি না এলেও গরম উপলক্ষে জীনাত ফ্যাশন তার ক্রেতাদের জন্য দিচ্ছে এক বিশেষ ছাড়।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পোশাক কিনলেই তা পাওয়া যাবে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। চলবে আগামী ১৫ থেকে ৩০ মার্চ। এর মধ্যে রয়েছে মেয়েদের থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, লেহেঙ্গা ও শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক। ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। আকর্ষণীয় ডিজাইনের এ পোশাকগুলোয় রয়েছে এম্ব্রয়ডারি, কারচুপি ও হাতের কাজ। কেনাকাটায় ছাড় ছাড়াও রয়েছে পোশাক অল্টার করার সুযোগ। এছাড়াও জীনাতে রয়েছে নিজের মনের মতো পোশাক তৈরির সুবিধা।
ঠিকানা : আভা-নীড়, বাড়ি-৫৪ (অ্যাপার্টমেন্ট ১/বি), রোড-১১, ব্লক এফ, বনানি, ঢাকা-১২১৩। ফোন : ৯৮৬৩০৪৩, ০১৯৭১৫৪৮৬৯১।

সৌন্দর্য চর্চায় হারবাল

যুগ যুগ ধরে সৌন্দর্য চর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে হারবাল। কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী আপনাকে সুন্দর করে তুললেও এর কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা স্বীকার করেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই। তবে ভেষজ উপাদান কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রকৃত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে আপনাকে করবে মোহনীয়। হারবাল রূপচর্চার নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ হাসিনা মমতাজ

ত্বকে হারবাল যত্ন

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করার বিকল্প নেই। মুখ ধোয়ার জন্য কেমিক্যালযুক্ত ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার না করে হারবাল উপায়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারি। এক্ষেত্রে দুই চা-চামচ দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তাতে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য দুধ ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তুলা ভিজিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে হলুদ বাটা ও চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে লাগান।
পাকা পেঁপে ময়েশ্চারাইজের কাজ করে। স্বাভাবিক ত্বকের যত্নে কাঁচা পেঁপের কষ, চন্দন গুঁড়া, গোলাপজলে মিশিয়ে মুখে লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে দইয়ের সঙ্গে লেবুর রস মিলিয়ে সারা মুখে মেখে রাখুন। কয়েক মিনিট পর ভেজা তুলা দিয়ে মুছে ফেলুন। গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শসার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে। ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমন্ড, বাদামি গোলাপের পাপড়ি এবং দুধের সর দিয়ে বেটে মুখে লাগান। ত্বককে টানটান করার জন্য ত্বকে লেবুর খোসা ঘষুন। লেবুর খোসায় উপস্থিত অ্যাস্টিনজেন্ট লোমকূপ বন্ধ করে ত্বককে টানটান করে।
ত্বকে যদি অন্য রকম এক আভা নিয়ে আসতে চান তাহলে মসুর ডাল বাটা, নিমপাতা বাটা, কাঁচা হলুদ বাটা, দই, মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য এক কাপ ফোটানো দুধে অর্ধেক লেবুর রস দিন। এতে আধা চা-চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। রাতে শোয়ার আগে এটি মুখে ও হাতে-পায়ে মেখে নিন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে তার ছাপ পড়তে থাকে। বয়স ধরে রাখতে হারবালের কোনো জুড়ি নেই। মুখে বয়সের ছাপ কমাতে চাইলে প্রতিদিন ডাবের পানিতে লেবুর রস দিয়ে পান করুন। যাদের মোটা শরীর তারা দেহের চর্বি কমাতে এক গ্লাস পানিতে একটি পুরো পাকা লেবুর রস এবং চার চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন।
ব্রণের সমস্যা ত্বকের সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। যারা ব্রণের সমস্যায় ভোগেন তারা নিমপাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ও চন্দন বাটা মুখে প্রলেপ দিন। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহখানেক এভাবে করলে ব্রণ পুরোপুরি চলে যাবে। তবে অনেকে নিমপাতা বেটে মুখে লাগান। এতে ত্বক কালো হয়ে যায়। ব্রণের সমস্যায় কচি মুলার রস ও সামান্য নিমপাতা সেদ্ধ পানি তুলার সাহায্যে ত্বকে লাগান। অনেকের মুখেই কালো কালো দাগ দেখা যায় যা সৌন্দর্যহানি ঘটায়। ১ চা-চামচ ধনিয়ার রসের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে সারা রাত মুখে লাগিয়ে রেখে দিন। সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় পুরো মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন কয়েক দিন ব্যবহারেই উপকার পাচ্ছেন। অনেকে মেছতা সমস্যায় ভোগেন। মেছতা সমস্যা একমাত্র হারবাল পদ্ধতিতেই পুরোপুরি ঠিক হয়। যাদের মুখে মেছতা আছে তারা ১ চা-চামচ সাদা জিরা গুঁড়া, ১ চা-চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ চা-চামচ সরষে গুঁড়া ও ১ চা-চামচ আটা মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মেছতার ওপর লাগান। বিশ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখে ক্লান্তির ছাপ কাটাতে চন্দন বাটা, তুলসী বাটা গোলাপজলে মিশিয়ে গলায় ও মুখে লাগান। দেখবেন ত্বক উজ্জ্বল হয়ে গেছে।
মরা কোষ উঠানোর জন্য প্রয়োজন স্ক্রাবার। ভেষজ উপাদান দিয়েই স্ক্রাবিং করা যায়। এজন্য ১ চা-চামচ করে আতপ চালের গুঁড়া, মধু, মেথি, মসুর ডাল বাটা, কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন বাটা ডাবের পানির সঙ্গে মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। বিশ-পঁচিশ মিনিট পর তা ধুয়ে ফেলুন। ত্বককে মসৃণ করার জন্য ১ কেজি পরিমাণ মসুর ডাল গুঁড়া করে তাতে আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া, শুকনো পোলাপ পাপড়ি গুঁড়া, চার টেবিল চামচ বেসন মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটি গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে আপনি মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ মাস্কটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে পনের মিনিট শুয়ে থাকুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সমপরিমাণ ভিনেগার ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে পাতলা করে নিয়ে ত্বকে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। মুলতানি মাটি, গোলাপজল ও চন্দন গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। বিশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এ উপকরণটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।
চুলের সৌন্দর্যে হারবাল
ত্বক যতই সুন্দর হোক না কেন চুল যদি হয় উস্কো-খুস্কো তবে সব সাজসজ্জাই মাটি হয়ে যাবে। আর তাই চুল সুন্দর করতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। চুলকে মসৃণ করতে কচি আমলকীর রস ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। চুল কালো করতে চাইলে জবা ফুলের রস লাগান। পুষ্ট ও ঝলমলে চুলের জন্য পাকা কুমড়ার বীজ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পাকা কুমড়ার বীজ শুকিয়ে বায়ু নিরোধক পাত্রে রেখে দিন এবং মাঝে-মধ্যে চিবিয়ে খান। চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে পেঁয়াজের রস পুরো মাথায় লাগান। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।
শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে আপনি চুলে রিঠা ব্যবহার করতে পারেন। এক মুঠো রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ফুটিয়ে নিন। তারপর তা চুলে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন। মসুর ডাল বাটার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আধা ঘণ্টা মাথায় রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল সতেজ হবে। এছাড়া সারা রাত মেথি ও কয়েকটা কাঁচা আমলকী পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন তা বেটে চুলে লাগান। চুল ঝরঝরে করার জন্য মেহেদি, আমলকী, টকদই ও ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে মাখুন এবং এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের প্রোটিন ট্রিটমেন্টের জন্য ডিমের সাদা অংশ ফেটে তাতে মেথি গুঁড়া মিশিয়ে চুলে লাগান।

বৈশাখী পোশাকের আগাম প্রস্তুতি

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উত্সব। এ উত্সবে দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস কে-ক্র্যাফট সেজেছে ব্যাপক আয়োজন নিয়ে। সময়ের পরিবর্তনে আজ বাংলা নববর্ষের উদযাপনে দেশের অন্যতম প্রধান আনন্দ উত্সবে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ঘরে নতুন বর্ষকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
কে-ক্র্যাফট নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ক্রেতাগোষ্ঠীর সামনে উপস্থাপন করেছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, অর্নামেন্টস, গিফটস ও গৃহসজ্জা সামগ্রী নিয়ে বৈশাখী আয়োজন। রং হিসেবে প্রধানত ব্যবহার হয়েছে লাল, মেরুন, অরেঞ্জ, সাদা, অফহোয়াইট, ম্যাজেন্টাসহ নানা রং। এ দেশের ট্রাডিশনাল ফোক মোটিফের নিরীক্ষাধর্মী নাগরিক ব্যবহার করা হয়েছে পোশাক ও অনুষঙ্গে।
নববর্ষের শাড়ি
দেশের প্রধান আনন্দ-উত্সব ঈদকে সামনে রেখে কে-ক্র্যাফট এ বছরে শাড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনের একটি বড় আয়োজন উপস্থাপনা করেছে। নিজস্ব ডিজাইনে বোনা তাঁতের শাড়িতে থাকছে বুননরীতি, মোটিফের ব্যবহার উপস্থাপনা, কালার বিন্যাস, ভ্যালু অডিশনে নানা মিডিয়ার ব্যবহার এ নিপুণতা। এবারের বৈশাখের কাজে বিষয় হিসেবে নানারকম ভিন্নতা আনা হয়েছে। পটচিত্র, ট্রাইবাল মোটিফ, গ্রিক আর্চ মোটিফ, ইমলামিক প্লান্ট মোটিফ, ফ্লাওয়ার মোটিফ ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। উইভিং ডিজাইনে বোনা তাঁতের শাড়িতে মার্জিত কালার ও উন্নত ফিনিশিং এ ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এপ্লিক, হাজার বুটির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু শাড়িতে অ্যাম্ব্রয়ডারি কাজ দেখা যাবে। প্রধানত টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে নিজস্ব ডিজাইনে শাড়িগুলো বোনা হয়েছে। তাতে ডবি/জ্যাকার্ড ডিজাইনকৃত ও ভাইটাল শাড়ির বিশেষ আয়োজন থাকছে। উজ্জ্বল রং, কন্ট্রাস্ট কম্বিনেশন উত্সবমুখী তরুণমনের উপযোগী এ শাড়িগুলোয় ইক্কাত, চেক, ডবি ও জ্যাকার্ড ডিজাইন দেখা যাবে। উপস্থাপনা ও কালার কম্বিনেশনে চমত্কারিত্ব দৃষ্টি কাড়বে।
মানিকগঞ্জে বোনা এন্ডি শাড়ির সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলাকা সিল্কের কম্বিনেশনে তৈরি শাড়িতে ব্লকপ্রিন্ট, স্কিনপ্রিন্ট, এপ্লিক, হাজার বুটির, এম্ব্রয়ডারি, চুমকি, পুঁতি, ভরাট ও কাঁথা স্টিচের কাজ করা হয়েছে। রুচিশীল, যত্নে তৈরি টারসের ব্যবহার শাড়ির উপস্থাপনায় এনেছে বৈচিত্র্য। মসলিন শাড়িতে গর্জিয়াস ও উত্সবধর্মী শেডওয়ার্ক, ভারী চুমকির কাজ, কারচুপি ও মেশিন এম্ব্রয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছে।
বৈশাখী আয়োজনে রুচির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্রাইস রেঞ্জে কে-ক্র্যাফট তার শাড়ির কালেকশন সাজিয়েছে। সাদা, টকটকে লাল, ন্যাচারাল, লাল-মেরুন রংয়ে ডিজাইনকৃত বর্ণিল শাড়িগুলো পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন। প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকছে তাঁতের কৌশল ও ভ্যালু অ্যাডিশনের উপস্থাপনায়।
সালোয়ার-কামিজ
নরসিংদী তাঁতে বয়নকৃত সুতি টুটন স্ট্রাইপ, টুইল, গুড়িচেক, নাচনাকাঠি, কাঁথা, ডবি ও জ্যাকার্ড স্টাইলে ডিজাইন করা নিজস্ব উইভিং ডিজাইনের কাপড় এবং ইয়ার্ন ডায়েড ও ন্যাচারাল এন্ডি ও জয়সিল্কের কম্বিনেশনে সালোয়ার-কামিজের বৈশাখী আয়োজন থাকছে। সালোয়ার-কামিজের কালেকশনে রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোড়া, সাদা, লাল, মেরুন, ইটলাল, অরেঞ্জ, ম্যাজেন্টার নানা কম্বিনেশন। প্রধান উজ্জ্বল রং ব্যবহারে পোশাকগুলোকে উত্সবমুখী করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যালু অডিশনের ক্ষেত্রে কর্ডের ব্যবহারে এম্ব্রয়ডারি ওয়ার্ক, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট, কাঁথা স্টিচ, কারচুপির কাজ, টাই এন্ড ডাই, এম্ব্রয়ডারি ওয়ার্কের মাধ্যমে অলংকরণ করা হয়েছে পোশাকের সারফেস। কাজের ক্ষেত্রে প্রিন্ট এম্ব্রয়ডারি নানারকম বর্ডার বিডস ব্রোকেট লেদার রেকসিন, লেস কারচুপি ব্যবহার হয়েছে।
প্রচলিত মাধ্যমের নানা মাত্রিক ব্যবহার এ পোশাকগুলো নববর্ষের উত্সবের আমেজকে ফুটিয়ে তুলেছে রং, কাট ও উপস্থাপনার বৈচিত্র্যে। সালোয়ার-কামিজগুলো গরমে পরার উপযোগী, এলিগেন্ট এবং উত্সবমুখী।
মেয়েদের ফতুয়া-টপস
কে-ক্র্যাফটের বৈশাখী আয়োজনে উপস্থাপিত ফতুয়া ও টপসে দেখা যাবে কাটের বৈচিত্র্য, ফেব্রিক্স এ নিজস্ব উইভিং ডিজাইন। ভ্যালু এডিশন ও এক্সেসরিজ এ চমত্কারিত্ব। টপস ও ফতুয়ার ডিজাইনে হাতের কাজে শেডওয়ার্ক, কাঁথা কাজ, মানিকগঞ্জের ভরাট, এপলিকের কাজ করা হয়েছে। সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রংয়ে সিকোয়েন্স, বিডস ও হাজার বুটি করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান উপযোগী এন্ডি, জয় সিল্ক ও মসলিনে কাটে ভিন্নতা এনে এম্ব্রয়ডারি, মেশিন কাটওয়ার্ক ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে। কে-ক্র্যাফটের নববর্ষে মেয়েদের ফতুয়া ও টপসের নানা অপশন রয়েছে। দামের ক্ষেত্রেও সব ক্রেতার কথা বিবেচনা করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা উত্সবধর্মী গর্জিয়াস টপস/ফতুয়া পছন্দ করেন অথবা পরতে চান প্লেন, সিম্পল, এলিগেন্ট লুক তাদের সবার জন্য নানা রঙ, কাট ও বৈচিত্র্যে থাকছে টপস ও ফতুয়া।
শিশুদের জন্য আয়োজন
শিশুদের জন্য এই নববর্ষে কে-ক্র্যাফট করেছে বিশেষ আয়োজন। ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য থাকছে প্রায় ২৫টি নতুন ডিজাইনের পোশাক। শিশুদের সালোয়ার-কামিজ, মেয়েদের ফ্রক, স্কার্ট-টপস ও ফতুয়া থাকছে বিভিন্ন দামে; লাল, কমলা, হলুদসহ উজ্জ্বল নানা রংয়ে। এ পোশাকগুলো কটবেসডের পাশাপাশি এম্ব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, হাতের কাজ, প্রিন্টেড থাকছে। ছেলেদের থাকছে বৈশাখী ফতুয়া-প্যান্ট, শাট-প্যান্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবির কালেকশন। হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি কাজ, প্রিন্ট ও নানা মাধ্যমের ব্যবহারে তৈরি পোশাকগুলো উত্সবমুখী, আরামদায়ক এবং কাট ও ফিনিসে উন্নত। আমাদের এই যান্ত্রিক পরিবেশে ফোক মোটিফ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই বাচ্চাদের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সার্কেলের মাঝে আবদ্ধ করতে চেষ্টা করেছি। এই বৈশাখে পোশাকের মাঝে উপস্থাপিত হয়েছে। শিরোনাম বা ক্যাপসন হিসেবে ফোক আর্ট মোটিফ সিরিজ—পাখা, কলস, পাখি, ড্রাই ফিস, ঘণ্টা, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, ঘুড়ি, হাঁস, মোরগ ও টমটম গাড়ি।
এছাড়া একোয়া ফিস, চিলড্রেন পেইটিং, ফোক আর্ট, পেঁচা, ঘুড্ডি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ফতুয়া, টি-শার্ট, শর্ট পাঞ্জাবি অলঙ্কিত করা হয়েছে। মাধ্যম হিসেবে স্ক্রিনপ্রিন্ট, এম্ব্রয়ডারি শামুক, ঝিনুক ব্যবহার, হ্যান্ড এপলিক ও সুতার কাজ করা হয়েছে ।
নববর্ষের পাঞ্জাবি
নববর্ষে পাঞ্জাবির ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কে-ক্র্যাফট। কাট, ফিনিসিং এক্সেসরিজের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ যন্ত নিয়ে পাঞ্জাবির ডিজাইন করা হয়েছে। সুতি, এন্ডি ও সিল্কে হাতের কাজ ও এম্ব্রয়ডারি কাজের পাঞ্জাবি থাকছে সাদা, মেরুন, ব্রিকরেড, কালোসহ নানা রংয়ে। প্রধানত জ্যামিতিক নকশায় কাঁথা, সাটিন স্টিচে অলঙ্কৃত এই কালেকশনটি সব বয়সী ক্রেতাকেই সন্তুষ্ট করতে পারবে। দামে থাকছে নানা রেঞ্জ। ফলে বাজেট উপযোগী পাঞ্জাবি পাবেন এখানে।
শর্ট পাঞ্জাবির বিশেষ অয়োজন থাকছে তরুণ মনের ক্রেতাদের জন্য। কাটে নতুনত্ব, উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য, রংয়ের বিন্যাসে চমত্কারিত্ব শর্ট পাঞ্জাবিতে দেখা যাবে। লেন্থে কিছুটা খাটো, ভ্যালু অডিশনে পরিমিতি বোধ, কলার-স্লিভ এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকছে শার্ট পাঞ্জাবিতে। এবারের বৈশাখে ছেলেদের পোশাকে আনা হয়েছে নানা রকম ভিন্নতা, ইসলামিক প্লান্ট মোটিফ, আর্চ গ্রিক মোটিফ, ন্যাচার সিরিজ, টেক্সটাইল ডিজাইন, ল্যান্ডস্কেপ, ফ্লাওয়ার মোটিভ, ছেলেবেলা সিরিজ, জীবনের হিসাব-নিকাশ, আনন্দ বেদনার টানপড়েন সিরিজ। মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে জিপার এম্ব্রয়ডারি, বিডস, পুঁতি, কারচুপি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হাতের কাজ, ভিন্ন লেআউটে প্যাচ ওয়ার্ক রেক্সিন, মেটাল ইত্যাদি। এছাড়া বুনন ও নকশায় শর্ট পাঞ্জাবিতে ব্যবহৃত উপকরণে থাকছে এক্সক্লুসিভিটি।
ছেলেদের ফতুয়া ও শার্ট
প্রধানত তরুণ মনের মানুষের কথা চিন্তা করে ডিজাইন করা ফতুয়ার কালেকশনটিতে ফেব্রিকের নানা ভ্যারিয়েশন থাকছে। স্ট্রাইপ, চেক, ইক্কাত, সলিড, জ্যাকার্ড ও ডবি বুননের ফতুয়াগুলো কাট ও ফিনিশে উন্নত। কাট বেসড ফতুয়ার পাশাপাশি ভ্যালু অডিশন হিসেবে এসেছে হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি, প্রিন্ট, ইরি কাজসহ নানা মিডিয়া। এছাড়াও কে-ক্র্যাফটে থাকছে স্ট্রাইপ, চেক শার্ট, প্রিন্ট শার্ট। প্রিন্টের শার্টে ব্যবহৃত হয়েছে জ্যামিতিক মোটিফ। ফতুয়া, শার্ট ও টি-শার্টে মোটিফ হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে টেরাকোটা মোটিফ ও লোকজ নানা মোটিফ।
কে-ক্র্যাফটের সব আউটলেটে বৈশাখী প্রদর্শনী চলছে। কে-ক্র্যাফটের আউটলেটের অবস্থান বনানী ১১ নম্বর রোড, নিউবেইলি রোড সরণি, রাইফেলস স্কয়ার, প্লাজা এ আর, সোবহানবাগ, মালিবাগ মৌচাকের কাছে, মিরপুর-২ স্টেডিয়ামের বিপরীতে, বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বসুন্ধরা সিটি লেভেল-২, দেশী দশ বসুন্ধরা সিটি লেভেল-৭, উত্তরা টাওয়ার, উত্তরা সেক্টর ৩, আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ ও চট্টগ্রাম দেশী দশ-এ। এছাড়া বৈশাখী আয়োজন দেখে নেয়া যাবে ওয়েবসাইটে।

ফ্যাশনের পাশাপাশি রোদ থেকে বাঁচতে সানগ্লাস

সানগ্লাস আমাদের ১২ মাস ফ্যাশনের একটি অংশ। সানগ্লাস ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণীরা গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত—সব ঋতুতে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কিন্তু চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সানগ্লাসের ব্যবহার ও বিক্রি বেশি লক্ষ্য করা যায়। সানগ্লাস চৈত্রের প্রচণ্ড রোদে চোখের পোশাকের কাজ করে। আমাদের দেহের পোশাক যেমন দেহকে সুরক্ষা করে, তেমনি সানগ্লাস ও আমাদের চোখকে সুরক্ষা করে। রাস্তার ধুলাবালি, পোকা-মাকড় ও সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে।
আমাদের দেশের মোটরসাইকেল আহরণকারী তরুণদের জন্য সানগ্লাস খুব প্রয়োজন। কারণ মোটরসাইকেল চলন্ত অবস্থায় বাতাসে ধুলাবালি এবং পোকা-মাকড় আমাদের চোখে এসে পড়তে পারে। এসব ধুলাবালি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে সানগ্লাস।
সানগ্লাস চোখের পোশাকের পাশাপাশি চোখের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।
কারণ সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি যা আমাদের চোখের কর্ণিয়া এবং রেটিনার ক্ষতি করতে পারে।
এ ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মিকে সানগ্লাস আমাদের চোখে পৌঁছতে দেয় না এবং প্রতিহত করে। বেলা ১১ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের আলোর তীব্রতা বেশি থাকে, তাই এ সময় সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীরা সানগ্লাস পছন্দ করে। আর তারা তাদের চেহারার মানানসই সানগ্লাস বেছে নিতে অবহেলা করে না। আমাদের দেশের ইয়াং জেনারেশন তাদের ড্রেসের সঙ্গে মানানসই একেক রকম সানগ্লাসের স্টক করে। ইয়াং জেনারেশনের পাশাপাশি ত্রিশোর্ধ্ব নারী-পুরুষও সানগ্লাস পছন্দ করেন। ত্রিশোর্ধ্ব লোকের সানগ্লাস পছন্দটা একটু ভিন্ন, তারা জোর দেন আরাম এবং স্টাইলের ওপর। এ শ্রেণীর লোকরা কালো, নীল, ব্রাউন কপি রংয়ের সানগ্লাস বেশি পছন্দ করেন। সানগ্লাস কেনার আগে কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করবেন—প্রথমে নজর দেবেন ফ্রেমের দিকে, যা আপনার চেহারায় ঠিকমত বসল কি-না। ফ্রেম কেনার সময় আপনার মুখের আকার দেখে ফ্রেম কিনুন। প্রয়োজনে আয়না ব্যবহার করুন। সানগ্লাসের গ্লাস সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ গ্লাস আপনাকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা করবে। বাজারে নানা রং-বেরংয়ের সানগ্লাস পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ধূসর, কালো, সোনালি, বাদামি, হলুদসহ নানা রং। তবে কালো গ্লাসের সানগ্লাস আপনার চোখের জন্য বেশি উপযোগী।
দাম কেমন
কয়েকটি বিখ্যাত ব্র্যান্ডের সানগ্লাস হচ্ছে—আরমানি, পুলিশ, ডিএনজি, রে বন, ওকলে, প্যারাডা ইত্যাদি। রে বন ব্র্যান্ডের সানগ্লাস পাবেন ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে, গুচ্ছি পাবেন ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়।
সাধারণত নর্মাল ব্র্যান্ডের সানগ্লাস পাবেন ৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। সস্তা সানগ্লাসগুলো আপনার চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সানগ্লাস কেনার সময় একবার হলেও চোখের কথা চিন্তা করবেন। চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ।
কোথায় পাবেন
আপনার পছন্দ অনুযায়ী এবং বাজেটের মধ্যে সানগ্লাস কোথায় পাবেন বসুন্ধরা শপিংমল, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউমার্কেটসহ শহরের বড় বড় মার্কেট ও দোকানগুলোয় এবং কম দামের সানগ্লাস পেতে পারেন ফুটপাতে।
তরুণদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সানগ্লাস খুব পছন্দের। আর ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের লোকরা জোর দেন আরাম ও স্টাইলের ওপর অর্থাত্ রুচিসম্মত সানগ্লাসের ওপর। অমূল্য সম্পদ চোখের যত্ন নিতে আমরা ভালো ব্রান্ডের সানগ্লাস ব্যবহার করি, রুচি ও ফ্যাশন ফুটিয়ে তুলি সচেতনতার মাধ্যমে।

সৌন্দর্য প্রকাশে চোখের গুরুত্ব

চোখের আকারের ওপর নির্ভর করে আপনার চোখের সাজ। আপনার চোখ যদি হয় কিছুটা কোটরের ভেতর ঢোকানো, তবে আইশ্যাডো হওয়া চাই হালকা। চোখের পাতা ও ভেতরের দিকে হালকা আইশ্যাডো দিন। একটু গাঢ় আইশ্যাডো লাগান পাতার ওপরে, ভ্রুর নিচে। মাঝারি রং থেকে আরও একটু গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো লাগান চোখের বাইরের কোণে, একটু বাইরের দিকে টেনে। ভ্রুর নিচে একদম হালকা রংয়ের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন। আর ভ্রু যেখানে শেষ হয়, সেই লাইনটাতে খুব সরু করে সাদা আইশ্যাডো লাগান। এবার চিকন আইলাইনার বা কাজল চোখের ওপরের পাতায় নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত টেনে দিন। নিচের পাতায় চাইলে খুব সরু করে কাজল নিতে পারেন। নিচের পাতায় কাজল না দিয়ে শুধু মাশকারা লাগিয়ে নিতে পারেন। চোখের ওপরের পাপড়িতেও মাশকারা দিতে পারেন। এতে আপনার চোখ বড় ও সজীব দেখাবে।
এ ধরনের চোখের পাতায় ও কোটরের ওপরের অংশজুড়ে খুব গাঢ় আইশ্যাডো লাগাবেন না। এতে চোখ আরও ভেতরের দিকে মনে হবে।
দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি একটু বেশি হয়, তবে চোখের সাজ হওয়া উচিত এমন যাতে চোখ দুটি কাছাকাছি দেখায়। চোখের পাতার মধ্যভাগ থেকে ভেতরের অংশ পর্যন্ত একটু হালকা রংয়ের আইশ্যাডো দিন। চোখের মধ্যভাগ থেকে বাইরের দিকের অংশে একটু গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো দিন। এই দুই শেড চোখে ব্লেন্ড করে নিন। টেনে কাজল বা আইলাইনার দিন চোখের ভেতরের দিকের অংশে। চোখের ভেতরের অংশে ওপরে ও নিচে হালকা করে মিলিয়ে নিয়ে চোখ আঁকতে পারেন।
আপনার দুই চোখের মাঝে দূরত্ব যদি কম হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা আইশ্যাডো দিন মাঝ বরাবর। এবার মধ্যাংশ থেকে বাইরের দিকে গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো দিন। দুটো রং ভালো করে মিলিয়ে দিন চোখের ওপরে। গাঢ় রংয়ের আইশ্যাডো চোখের কোণের বাইরে টেনে দিয়ে নিচের অংশের মাঝ বরাবর দিতে পারেন। আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের অংশ থেকে চোখের কোণের বাইরে পর্যন্ত টেনে দিন। বাইরের অংশটিতে একটু গাঢ় বা মোটা করে, একটু ওপরের দিকে টেনে দিতে পারেন। এভাবে আপনার চোখ টানা-টানা ও সুন্দর দেখাবে।
আপনার চোখের আকার যদি হয় নিচের দিকে নামানো, তবে আইশ্যাডো ওপরে এবং বাইরের দিকে টেনে দিতে হবে। চোখের ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের কোণ থেকে নিয়ে মধ্যভাগ পর্যন্ত গাঢ় আইশ্যাডো দিন। খেয়াল রাখবেন ওপরের অংশের গাঢ় আইশ্যাডো যেন টেনে নিচে নামিয়ে না আনা হয়। এবার চোখের ভেতরের অংশ থেকে আইলাইনার বা কাজল টেনে বাইরের অংশ পর্যন্ত দিয়ে একটু ওপরের দিকে ছড়িয়ে দিন। মধ্যভাগ থেকে বাইরের কোণ পর্যন্ত একটু মোটা করে নিন আপনার কাজল। চোখের নিচের পাতায় হালকা কাজল দিয়ে বাইরের কোণটি ওপরের কোণের সঙ্গে একটু ওপরে টেনে মিলিয়ে নিন। চোখের ওপরের পাতার পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগিয়ে নিন।
আপনার চোখ যদি চিকন ধরনের হয়, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে একটু হালকা শ্যাডো দিন। বাইরের অংশে গাঢ় শেড দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। আইলাইনার বা কাজল চোখে খুব একটা টেনে দেয়ার দরকার নেই। এতে চোখ আরও লম্বা দেখাবে। হালকা লাইনার বা কাজল অথবা এর বদলে কালো আইশ্যাডো দিয়ে ঘন করে মাশকারা নিতে পারেন।
যাদের চোখ একটু ফোলা ধরনের, তারা চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা, চোখের কোণ ও কোটরের ওপর গাঢ় আইশ্যাডো দিয়ে চোখের ফোলা ভাব কমাতে পারেন। মোটা করে কাজল বা আইলাইনারও লাগিয়ে চোখের ফোলা ভাব কমানো যায়। যাদের চোখের কোণ ফোলা থাকে, তারা ওপরের ও নিচের পাতায় গাঢ় করে কাজল বা আইলাইনার টেনে একটু মোটা করে লাগাতে পারেন। আপনার চোখ যদি হয় গোলাকৃতির, তবে চোখের পাতার ভেতরের অংশে হালকা ও বাইরের অংশে গাঢ় আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন।
কাজল বা আইলাইনার চোখের ভেতরের কোণে হালকা করে লাগিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত চিকন করে টেনে লাগান। বাইরের কোণে কাজল একটু মোটা বা ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেন। চোখের নিচের পাতার কোণের সঙ্গে কাজল টেনে ওপরের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিন।
আইশ্যাডো ব্যবহার করতে না চাইলে মুখে হালকা ফেস পাওডার দিয়ে চোখে শুধু কাজল দিয়েও হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া সুন্দরী। প্রসাধনীতে সুরমার প্রচলন এখনও আছে। টেনে সুরমা দিলে চোখ টানা টানা লাগে। আবার হালকা করে চোখের ওপরের পাতায় কাজলের সঙ্গে মাশকারা লাগাতে পারেন।
চোখ যদি মাঝারি আকারের হয়, তবে আইলাইনার বা কাজল চোখের ভেতরের কোণ থেকে টেনে নিয়ে বাইরের কোণ পর্যন্ত লাগান। ভেতরের দিকে ওপরের ও নিচের পাতায় কাজল দিয়ে চোখ টেনে একে নিন। আবার বাইরের কোণেও একটু বাড়িয়ে ওপর দিকে কাজল দিন। চোখের নিচের পাতার মাঝ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত একটু মোটা করে ওপর দিকে টেনে কাজল দিন। এতে চোখ টানা টানা ও ভাসা ভাসা লাগবে।
আজকাল চোখের সঙ্গে স্মোকি আইস বা কালো ধরনের মেকআপ খুব প্রচলিত। এতে প্রথমে চোখের পাতায় একটি বেজ লাগিয়ে নিন। হালকা বাদামি রংয়ের শেড দিন বাইরের কোণ থেকে চোখের কোটরের ওপর দিয়ে ভেতর পর্যন্ত। একটু কালো বা গাঢ় বাদামি রংয়ের শ্যাডো লাগান চোখের পাতার বাইরের কোণ থেকে ভেতরে চোখের কোটরের লাইন বরাবর। আইলাইনার বা কাজল লাগান গাঢ় করে, চোখের পাতার ভেতরের অংশ থেকে বাইরের অংশ পর্যন্ত। নিচের পাতায় কাজল দিন। কাজলের বদলে আইশ্যাডো দিতে পারেন। ভ্রুর নিচে একটু হালকা সোনালি আইশ্যাডো দিন।
চোখে ভাসা ভাসা একটা ভাব আনতে চোখের ওপর-নিচের পাতায় কাজল দিন। এবার আঙুল দিয়ে চোখের ওপরের পাতার কাজল একটু ওপরের দিকে ঘষে মিশিয়ে দিন।
চোখের সাজ আরও আকর্ষণীয় করতে আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন রংয়ের লেন্স পরতে পারেন। চোখের সাজ আপনার পোশাকের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। ভ্রুর ক্ষেত্রে কাজল ব্যবহার না করে, বাদামি ভ্রু পেনসিল বা বাদামি আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। এ ছাড়া চোখ আরও দৃষ্টিনন্দন করতে ব্যবহার করতে পারেন আলগা আইল্যাশ। আপনার চোখ ও মন বুঝে নিতে পারেন একেক ধরনের সাজ। কখনও চিকন, কখনও বা ষাটের দশকের নায়িকাদের মতো টেনে কাজল দিয়ে আপনি হয়ে উঠতে পারেন দৃষ্টিনন্দিত।